চাকরির পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন

চাকরির পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন ও প্রস্তুতির কৌশল

বাংলাদেশে চাকরির পরীক্ষা একটি প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতা। সরকারি চাকরি হোক বা বেসরকারি, প্রতিটি পরীক্ষায় হাজার হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে যারা সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন তারাই শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেন। তবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিটি চাকরির পরীক্ষায় কিছু প্রশ্ন এমন থাকে যেগুলো প্রায় প্রতি বছরই পুনরাবৃত্তি হয়। একবার আসা প্রশ্ন আবার অন্য পরীক্ষায় নতুনভাবে বা সামান্য পরিবর্তন করে আসে।

তাই যারা চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো—বারবার আসা কমন প্রশ্ন ও টপিকগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা। এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, কোন কোন বিষয়ে বেশি প্রশ্ন আসে, উদাহরণসহ বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করব এবং কীভাবে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে সাফল্য পাওয়া যায় তা তুলে ধরব।

বাংলা অংশে বারবার আসা প্রশ্ন

বাংলা অংশ চাকরির পরীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় সব পরীক্ষাতেই বাংলা থেকে প্রশ্ন থাকে এবং এগুলোর বেশিরভাগই ঘুরেফিরে একই বিষয় থেকে আসে।

প্রথমেই বলতে হয় শুদ্ধ বানান নিয়ে প্রশ্নের কথা। পরীক্ষায় প্রায়ই এমন শব্দ দেওয়া হয় যেগুলো দেখতে একই রকম হলেও সঠিক বানান জানলে পার্থক্য বোঝা যায়। যেমন “অকারণ” আর “আকারণ”—দুটির মধ্যে পার্থক্য অনেক পরীক্ষার্থীই বুঝতে পারেন না। আবার “অপকার” শব্দটি সমাস বিশ্লেষণ করতে বলা হলে উত্তর হবে উপসর্গসমাস।

এ ছাড়া কারক ও বিভক্তি নিয়ে প্রশ্নও প্রায়শই আসে। উদাহরণস্বরূপ, “রাহিমকে দিয়ে কাজটি করানো হলো” বাক্যে “রাহিমকে” সম্প্রদান কারক নির্দেশ করে। অনেক পরীক্ষায় এই ধরনের কারক নির্ণয় করতে বলা হয়।

বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন থেকেও প্রশ্ন নিয়মিত আসে। যেমন—“কাঁটা ঘায়ে নুন ছিটানো” অর্থ হলো দুঃখের মধ্যে আরও কষ্ট দেওয়া। আবার “হাতের মুঠোয় রাখা” বলতে বোঝায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

সাহিত্য অংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা থেকে প্রশ্ন আসা খুবই সাধারণ ঘটনা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একাধিক পরীক্ষায় “গীতাঞ্জলি” কোন গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান—এই প্রশ্ন এসেছে। সঠিক উত্তর হলো “গীতাঞ্জলি” কাব্যগ্রন্থের জন্য।

বাংলা অংশের প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বাংলা একাডেমির অভিধান ও সাহিত্য বিষয়ক ছোট ছোট রিভিশন নোট ব্যবহার করা। প্রতিদিন কিছু নতুন শব্দ শিখে তার প্রয়োগ বুঝতে পারলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ইংরেজি অংশে পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন

চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজি অংশ অনেক প্রার্থীর জন্য জটিল মনে হয়। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যায়, এখানেও কিছু নির্দিষ্ট বিষয় থেকেই বেশি প্রশ্ন আসে।

ইংরেজি Grammar এর মধ্যে tense অনুযায়ী verb এর সঠিক ব্যবহার বা right form of verb সবচেয়ে বেশি আসে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: He (go) to school every day. এখানে সঠিক উত্তর হবে goes কারণ এটি Present Indefinite tense এবং subject হলো third person singular। আবার আরেকটি উদাহরণ: She (write) a letter yesterday. এখানে উত্তর হবে wrote, কারণ yesterday থাকায় এটি Past Indefinite tense।

Preposition এর ব্যবহারও নিয়মিতভাবে প্রশ্নে আসে। যেমন: He is interested ___ music. সঠিক উত্তর হলো in। আবার She is capable ___ doing it. এর উত্তর হবে of

Articles এর ব্যবহারেও অনেক প্রশ্ন আসে। উদাহরণস্বরূপ, He is ___ honest man. এখানে উত্তর হবে an, কারণ honest শব্দটি স্বরবর্ণ ধ্বনি দিয়ে শুরু হয়েছে।

Narration ও Voice Change এর প্রশ্নও পরীক্ষায় থাকে। যেমন Direct থেকে Indirect এ পরিবর্তন করা: He said, “I am happy.” পরিবর্তিত রূপ হবে He said that he was happy. একইভাবে Active থেকে Passive: She writes a letter. হবে A letter is written by her.

ইংরেজি অংশে ভালো করার জন্য প্রতিদিন newspaper পড়া জরুরি। এতে শুধু vocabulary বাড়ে না, grammatical ব্যবহারও ভালোভাবে বোঝা যায়। বিশেষ করে Editorial অংশ পড়লে sentence structure স্পষ্ট হয়ে যায়।

গণিত অংশে বেশি আসা প্রশ্ন

গণিত এমন একটি বিষয় যেটি অনেকের কাছে ভয়ের। কিন্তু আসলে চাকরির পরীক্ষায় যে গণিত আসে তা তেমন জটিল নয়। বরং শতকরা, ভগ্নাংশ, লাভ-ক্ষতি, গড়, সময় ও কাজ ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন বেশি আসে।

উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রশ্ন ধরা যাক: একজন ব্যবসায়ী ১০০০ টাকায় একটি পণ্য কিনে ১২০০ টাকায় বিক্রি করলেন। তার লাভের হার কত? এখানে লাভ হলো ২০০ টাকা। সুতরাং লাভের হার হবে (২০০÷১০০০)×১০০ = ২০%।

আরেকটি উদাহরণ সময় ও কাজের: একজন ব্যক্তি ১০ দিনে একটি কাজ করতে পারেন, আরেকজন ২০ দিনে। একসাথে করলে তারা কত দিনে কাজটি শেষ করবেন? সমাধান হবে ১/১০ + ১/২০ = ৩/২০। অর্থাৎ তারা ২০/৩ দিনে কাজটি শেষ করবেন, যা আনুমানিক ৬ দিন ১৬ ঘণ্টা।

গড় সম্পর্কিত প্রশ্নও নিয়মিত আসে। যেমন: তিনজন ছাত্রের বয়স যথাক্রমে ১০, ১২ এবং ১৪ বছর হলে তাদের গড় বয়স কত? সমাধান হবে (১০+১২+১৪)/৩ = ৩৬/৩ = ১২।

এসব সমস্যার সমাধান নিয়মিত চর্চা করলে পরীক্ষার হলে খুব অল্প সময়ে উত্তর বের করা যায়।

সাধারণ জ্ঞান অংশে পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন

সাধারণ জ্ঞান এমন একটি অংশ যেখানে মুখস্থ করার পাশাপাশি বোঝারও প্রয়োজন হয়। কারণ প্রশ্ন আসে ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—বাংলাদেশের সংবিধান কবে প্রণীত হয়? উত্তর ১৯৭২ সালে। আবার মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত প্রশ্ন যেমন—বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার কোথায় গঠিত হয়েছিল? উত্তর মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়, যা বর্তমানে মুজিবনগর নামে পরিচিত।

আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যেমন জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায়? উত্তর নিউইয়র্কে। আবার বিজ্ঞান অংশে প্রশ্ন হয়—টেলিফোন কে আবিষ্কার করেছেন? উত্তর আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল।

প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রশ্নও নিয়মিত আসে। যেমন—কম্পিউটারের জনক হিসেবে কাকে বলা হয়? উত্তর চার্লস ব্যাবেজ।

সাধারণ জ্ঞানে দক্ষ হতে হলে প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়তে হবে, বিশেষ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর নিয়মিতভাবে দেখা দরকার। পাশাপাশি ছোট ছোট Current Affairs বই পড়া পরীক্ষার জন্য সহায়ক।

প্রস্তুতির সঠিক কৌশল

চাকরির পরীক্ষায় ভালো ফলাফল পেতে হলে শুধু মুখস্থ করলেই হবে না। প্রতিটি টপিকের মূল ধারণা বুঝতে হবে। এজন্য প্রথমে একটি সময়সূচি তৈরি করা উচিত যেখানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান পড়ার ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলা অংশের জন্য আলাদা খাতা ব্যবহার করা যেতে পারে যেখানে কঠিন শব্দ, বাগধারা ও গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কিত তথ্য লেখা থাকবে। ইংরেজি অংশে প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি নতুন শব্দ শেখা এবং বাক্যে ব্যবহার করা খুবই কার্যকর। গণিতের জন্য প্রতিদিন কিছু সমস্যা সমাধান করতে হবে। সাধারণ জ্ঞান মনে রাখতে হলে নিয়মিত লিখে লিখে পড়তে হবে।

বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। এতে শুধু প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না, একইসাথে কোন বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে তাও বোঝা যায়। অনেক সময় হুবহু একই প্রশ্ন আবার পরীক্ষায় এসে যায়।

আরও দেখুনঃ

উপসংহার

চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে হলে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিতে হয়। এলোমেলোভাবে পড়াশোনা করলে ফলাফল ভালো হয় না। তাই সবচেয়ে আগে যেটা করতে হবে তা হলো—বারবার আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা।

বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি অংশের যেসব প্রশ্ন নিয়মিত আসে সেগুলো যদি ভালোভাবে শিখে রাখা যায় তবে পরীক্ষার হলে অনেকটা এগিয়ে থাকা যায়। মনে রাখতে হবে, সাফল্য একদিনে আসে না।

নিয়মিত অধ্যয়ন, চর্চা, রিভিশন আর সঠিক কৌশলই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

Check Also

A Day Labourer Paragraph

A Day Labourer Paragraph in 100 to 300 Words

A day labourer is the unsung hero of our economy, transforming physical toil into the …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *